সরকারী অনুষ্ঠানে জেলাশাসকের সাথে খুনের মামলায় ফেরার অভিযুক্ত। নজির বিহীন ঘটনার প্রশ্ন এড়ালেন উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলা শাসক চৈতালী চক্রবর্তী। আর পুলিশের খাতায় ফেরার অভিযুক্ত অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরলেন পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে। বিজেপির দাবি, পুলিশ তৃণমূলের পার্টি সদস্য হয়ে কাজ করছেন। সোমবার দুপুরে সন্দেশখালি হত্যাকান্ডে পুলিশের খাতায় ফেরার শিক্ষা ও সংস্কৃতি কর্মাধ্যক্ষ তথা হাসনাবাদ ব্লকের তৃণমূল পর্যবেক্ষক ফিরোজ কামাল গাজি ওরফে বাবু মাস্টার জেলা শাসকের সাথে উত্তর চব্বিশ পরগনা ৩৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মত সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চে বসলেন পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের খাতায় ফেরার বাবু মাস্টার। এরআগে, দলীয় অনুষ্ঠান মঞ্চে মন্ত্রীর সাথে উঠে বিতর্ক বাড়িয়েছিলেন। এবার তিনি সরাসরি হাজির সরকারি অনুষ্ঠান মঞ্চে। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠান মঞ্চে দেখা গেল সন্দেশখালির মূল অভিযুক্ত ফিরোজ কামাল গাজি ওরফে বাবু মাস্টারকে। আর সে ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্ন শুনে তড়িঘড়ি গাড়িতে উঠে পড়লেন জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্তী। পুলিশের খাতায় বাবু মাস্টার ফেরার। অথচ এদিন সেই পুলিশই তাঁকে বেরোনোর সময় গাড়িতে তুলে দেয় । গত ৯ জুন সন্দেশখালির ভাঙিপাড়ায় তৃণমূল-বিজেপি রাজনৈতিক সংঘর্ষে প্রদীপ মণ্ডল, সুকান্ত মণ্ডল ও কায়য়ুম মোল্লা নামে তিন জনের মৃত্যু হয়। দেবদাস মণ্ডল নামে এক বিজেপি কর্মী এখনও নিখোঁজ। ঘটনার পরের দিন নিহত প্রদীপ মণ্ডলের স্ত্রী পদ্মা মণ্ডল সন্দেশখালি থানায় মোট ২৫ জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। তৃণমূলের সন্দেশখালি-এক ব্লক সভাপতি শাজাহান শেখের সঙ্গে সেই এফআইআর তালিকার ২ নম্বরে নাম রয়েছে বাবু মাস্টারের। বাবু মাস্টার হাসনাবাদ-সন্দেশখালি এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ। গোটা রাজ্য তোলপাড় করা সন্দেশখালির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বাবু মাস্টারকে সোমবার বারাসত রবীন্দ্রভবনে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের ৩৩তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চে দেখা গেল। যে মঞ্চে হাজির ছিলেন খোদ জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্তী ও সভাধিপতি বীণা মণ্ডল। সভা শেষ হতেই জেলাশাসককে জিজ্ঞাসা করা হয়, সরকারি অনুষ্ঠান মঞ্চে কেমন করে বাবু মাস্টারের মতো সন্দেশখালির ফেরার অভিযুক্ত বাবু মাস্টার হাজির হলেন? জেলাশাসক কোনও কথা না বলে তড়িঘড়ি গাড়িতে উঠে পড়েন। সরকারি মঞ্চে বাবু মাস্টারের উপস্থিতি সম্পর্কে সভাধিপতি বীণা মণ্ডল বলেন, 'এ ব্যাপারে দল যা বলার বলবে।' সরকারি অনুষ্ঠান সম্পর্কে দল কেন বলবে? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে বীণা বলেন, 'আমি এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করব না।' তারপর তিনিও তড়িঘড়ি সেখান থেকে চলে যান। আর যাকে ঘিরে বিতর্ক সেই বাবু মাস্টার বলেন, 'সন্দেশখালির যেখানে ঘটনা ঘটেছে, সেখান থেকে অনেক দূরে আমি থাকি। এফআইআরে নাম থাকা মানেই কেউ দোষী হয়ে যায় না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এফআইআরে আমার নাম ঢোকানো হয়েছে।'
Friday, June 28, 2019
সরকারী অনুষ্ঠানে জেলাশাসকের সাথে ফেরার অভিযুক্ত
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment