দুইশো বছরের বেশি সময় ধরে আয়োজন করে আসছে হিন্দু-মুসলিম সমন্বয়ে দূর্গোৎসব - ব্রেকিং বাংলা

Breaking

Saturday, September 14, 2019

দুইশো বছরের বেশি সময় ধরে আয়োজন করে আসছে হিন্দু-মুসলিম সমন্বয়ে দূর্গোৎসব

নিজস্ব প্রতিনিধি,উত্তরদিনাজপুর, ১৪সেপ্টেম্বরঃ-হিন্দু-মুসলিম সমন্বয়ে দুইশো বছরের বেশি সময় ধরে সম্প্রীতির দূর্গোৎসব হয়ে আসছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের মেহেন্দিগ্রামের সার্বজনীন দূর্গাপুজা। রায়গঞ্জের মেহেন্দিগ্রামের সার্বজনীন দূর্গোৎসবে পুজোর চাঁদা দেওয়াই শুধু নয়, রীতিমতো পুজোকমিটিতে থেকে চাঁদা তোলা সহ সব কাজেই সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেন এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হলেও এখানকার দেবী দূর্গার মাহাত্ম্য তাদেরকে আকৃষ্ট করে পুজোয় শামিল হতে। আর সেকারনেই রায়গঞ্জ শহর থেকে দশ কিলোমিটার দূরের এই গ্রামের পুজোর দেবীর প্রতিমা দর্শন করতে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন। প্রায় দুইশো বছর আগে। কথিত আছে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলাদেশের হরিপুরের জমিদার দুর্লভ রায় চৌধুরী এই পুজো শুরু করেছিলেন। এখানকার বাসিন্দারা পুজোর সময় আসলেই পায়ে হেটে হরিপুরে জমিদারের বাড়ি গিয়ে পুজোর সামগ্রী বাঁকে করে বয়ে নিয়ে আসত এই মেহেন্দিগগ্রামে। দেশভাগ ও জমিদারি প্রথা লোপ পাওয়ার পরে মেহেন্দিগ্রামের সর্বধর্মের বাসিন্দারাই চাঁদা তুলে দূর্গোৎসবের আয়োজন করে আসছে। আজ এই মেহেন্দিগ্রামের পুজো সম্প্রীতিরর পুজো বলে পরিনিত হয়েছে। এলাকার হিন্দু মুসলিম বাসিন্দারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পুজো করে চলেছে। দূর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে এলাকার মুসলিম বাসিন্দাদের বাড়িতে দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয় পরিজনেরাও আসেন এই পুজোর আনন্দ উপভোগ করতে। এই পূজোর দশমীর মেলা যেন সম্প্রীতির মেলবন্ধন হয়ে ওঠে। মেহেন্দিগ্রাম সার্বজনীন দূর্গাপুজার বিসর্জনের একটি বিশেষত্ব রয়েছে। সেই পুরোনো আমল থেকেই মা দূর্গা ভাসানো হয় নির্দিষ্ট করা " বালিহাসা" পুকুরে। অন্য কোনও পুকুর বা নদীতে এই প্রতিমা ভাসানো গ্রামের অমঙ্গলের সংকেত বলে বিশ্বাস সর্বধর্মালম্বী বাসিন্দাদের।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad