নিজস্ব প্রতিনিধি,নদীয়া,৩১জুলাইঃ-'দিদিকে বলো' রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জন সংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করতেই, শোরগোল পরে যায় তৃণমূলের অন্দরে। 'দিদিকে বলো' জনগণের উদ্দেশ্যে একটি মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে। তাতে রাজ্যের যে কোনও ধরণের মানুষ কে তাদের এলাকার সমস্যা কিংবা কোনও অভিযোগ জানাতে পারবেন। দিদির এই কর্মসূচি কে বাস্তবে রূপ দিতে জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে তৃণমূলের নেতা কর্মীদের তৎপরতা। মঙ্গলবার বিকেলে নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে জেলা পার্টি অফিসে রানাঘাট জেলার তৃণমূল সভাপতি শংকর সিং ও প্রাক্তন জেলা সভাপতি গৌরী শংকর দত্তের উপস্থিতিতে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে দিদির নির্দেশ অনুযায়ী দলীয় নেতা কর্মীদের, গ্রামের প্রতিটি সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে 'জন সংযোগ' গড়ে তুলবেন। কৃষ্ণনগরের পর এবার নবদ্বীপেও 'দিদিকে বলো' কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার দুপুরে বড়ালঘাট স্পোটিং ক্লাব সভা গৃহে দিদির কর্মসূচি কে সফল করে তুলতে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন নবদ্বীপের বিধায়ক পুন্ডরীকাক্ষ সাহা। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে দলীয় যুব কর্মীদের 'দিদিকে বলো' ও ফোন নম্বর লেখা টিশার্ট প্রদান করা হয়। পরে বিধায়ক বলেন, দিদির নির্দেশে আমরা আমাদের বিধানসভা এলাকায় বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে যাব। সেখানকার সমস্যার কথা শোনা হবে। পাশাপাশি সেই সব এলাকার প্রতিটি মানুষের যে কোনও অভিযোগ শোনা হবে। পুরপিতা বিমান কৃষ্ণ সাহা বলেন, আমরা দিদির অনুগত সৈনিক। দিদির নির্দেশ পালন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। বিমান বাবু জানান,দিদির জনসংযোগ যাত্রার মূল উদ্দেশ্য হল, গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সঙ্গে তৃণমূলের সংযোগ গড়ে তোলা। 'দিদিকে বলো' দাদা ওরা বারবার ফোন করছে। কবে যাব এক ঘণ্টায় জানাতে হবে।' জেলার নেতাকে ফোনে জানতে চাইলেন তৃণমূল বিধায়ক। ও প্রান্ত থেকে নির্দেশ, সময় ঠিক করে বলে দে। 'দিদিকে বলো' কর্মসূচি নিয়ে এখন তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়ে গিয়েছে দৌড়াদৌড়ি। প্রশান্ত কিশোরের নির্দেশে তৃণমূলের সব বিধায়ককে যেতে হবে গ্রামে। সেখানে গিয়ে কথা বলতে মানুষের সঙ্গে। শুনতে হবে তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা। আর দলের এমন নির্দেশের পর রীতিমতো ভাবনাচিন্তা শুরু করে দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়করা। কর্মসূচি সফল করতেই হবে, কারণ নজর রাখছেন প্রশান্ত কিশোর। ব্যর্থ হলেই ২০২১ সালে টিকিট না পাওয়ার আশঙ্কা তো থাকছেই। ফলে চেয়ার ধরে রাখতে ছুটতে হবে মানুষের মাঝে। কিন্তু গোটা কর্মসূচি নিয়ে দ্যোতানায় ভুগছেন তৃণমূল বিধায়কদের একাংশ। কারণ এমন অভিজ্ঞতা আগে হয়নি। তার উপরে লোকসভা ভোটের পর উজ্জীবিত গেরুয়া শিবির। বিধায়কদের ব্যতিব্যস্ত করতে তাদের পরিকল্পনাও সারা। গ্রামে ঢোকার পথে তাই রয়েছে বিক্ষোভের আশঙ্কা। বিষয়টি ভাবাচ্ছে বিধায়কদের একাংশকে। ইতিমধ্যেই নিচুতলার নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে পরিকল্পনা করতে শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা। দলনেত্রী 'দিদিকে বলো' কর্মসূচি ঘোষণা করে দাবি করেছিলেন, নব কলেবরে সুসজ্জিত হচ্ছে তৃণমূল। সে জন্য আরও বেশি তটস্থ তৃণমূল বিধায়করা। এতদিন শুধু দলের শীর্ষ নেতৃত্বেরই নজর থাকত, এবার প্রশান্ত কিশোরের মতো ভোটগুরুও রয়েছেন আড়ালে। সব মিলিয়ে নয়া চ্যালেঞ্জের আগে তৃণমূলের অন্দরমহল এখন সরগরম।
Wednesday, July 31, 2019
'দিদিকে বলো' কর্মসূচির বাস্তব রূপ দিতে জেলা জুড়ে তৃণমূলের নেতা কর্মীদের তৎপরতা
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment