গণবণ্টন ব্যবস্থায় কার্যত নজরদারি করবে এবার ‘কন্যাশ্রী’ মেয়েরা - ব্রেকিং বাংলা

Breaking

Sunday, July 28, 2019

গণবণ্টন ব্যবস্থায় কার্যত নজরদারি করবে এবার ‘কন্যাশ্রী’ মেয়েরা

নিজস্ব প্রতিনিধি,পুরুলিয়া,২৮জুলাইঃ-রবিবার জেলা সদরের রবীন্দ্রভবনে কন্যাশ্রীর মেয়ে ও আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ কর্মশালায় সেই কথা জানাল প্রশাসন। এদিন বিভিন্ন ব্লক থেকে কন্যাশ্রীর মেয়েরা যোগ দেয় এই কর্মশালায়। তাদের কাছে প্রশাসনের তরফ থেকে একটি সমীক্ষার ফর্ম দেওয়া হয় যাতে তাদের বিদ্যালয়ে শৌচাগার তাদের হাতে গণবণ্টন ব্যবস্থায় বিতরিত খাদ্য সামগ্রীর মাসিক বরাদ্দের একটি করে তালিকা তুলে দেওয়া হয়। ওই তালিকায় রেশন দোকান খোলার সময় এবং অভিযোগ জানানোর জন্য তল ফ্রী নম্বর দেওয়া হয়। এছাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিশু, গর্ভবতী এবং প্রসূতির খাদ্য তালিকা দেওয়া হয়েছে। এই তালিকা দেখেই নজরদারি করবে কন্যাশ্রীর মেয়েরা। ২৭৪ কন্যাশ্রী ক্লাবের মেয়েরা এই কাজ করবে বলে এদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন জেলা শাসক কন্যাশ্রীর কন্যাদের সামাজিক বিভিন্ন দায়িত্ব নিয়েও অবহিত করেন। তার মধ্যে গুরুত্ব দেন রেশন নিয়ে সচেতনতার উপরও। কন্যাশ্রীর মেয়েরা সমাজে শৌচাগারের ব্যবহার, পরিচ্ছন্নতার সাথে সাথে নাগরিকদের অধিকার নিয়েও প্রচার চালাবে বলে জানান জেলা শাসক। এদিন তিনি আরও বলেন আগামী ১৪ আগস্ট কন্যাশ্রী দিবসের প্রাক্কালে পুরুলিয়ার সমস্ত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে শৌচাগারগুলির কি অবস্থা তা নিয়ে সার্ভে করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিও এই সার্ভের দায়িত্বে থাকবেন। ছবি সমেত এই রিপোর্ট পাঠানো হবে। পুরুলিয়া জেলায় কন্যাশ্রী প্রকল্প অত্যন্ত উপযোগী জানিয়ে জেলা শাসক আরও বলেন ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী এজেলায় বাল্য বিবাহ এক অভিশাপ হয়ে রয়েছে। দেখা গেছে এই জেলায় ১৩ বছর বয়সী মেয়েরা স্কুলে যায় ৮০ শতাংশ। অথচ আঠারো বছরে এই সংখ্যাটা কমে হয়ে যাচ্ছে মাত্র ৩০ শতাংশ। এই বয়সের মধ্যেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে ৪৩ শতাংশ মেয়ের। জেলার ২৩ শতাংশ কন্যা পনের থেকে উনিশ বছরের মধ্যে মা হয়ে যাচ্ছে। অবধারিত ভাবে একারণে জন্ম হচ্ছে অপুষ্ট শিশুর। এদিনের অনুষ্ঠানে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বেশ কয়েক জন কন্যাশ্রী। তাদের জীবনের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কথা বলে তারা। এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক রাহুল মজুমদার, সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় সহ জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad