বাংলা থেকে ১৮টি আসন পেলেও বিজেপির বর্তমান সংগঠন দিয়ে বাংলা জয় বিন্দু মাত্র সম্ভব নয় তা বিলক্ষণ বুঝেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল ব্রিগেডকে রাজনৈতিক ও গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই হারিয়ে শাসন ক্ষমতায় বসতে চায় বিজেপি।দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে বাংলা জয়ের সেই রণকৌশলের খসড়া। বিজেপি সুত্রের খবর, বাংলা জয়ের জন্য দীর্ঘ দিনের প্রথা ভেঙে বাইরে থেকে কোনও জাদরেল নেতাকে সংগঠনের দ্বায়িত্বে বসানো হতে পারে। সুত্রের আরও দাবি, সেক্ষেত্রে সংঘ পরিবার যাতে অসন্তুষ্ট না হন সেবিষয়ে নাগপুরে সংঘের সদর কার্যালয়ে অমিত শাহ নরেন্দ্র মোদীর প্রতিনিধি দল গিয়ে ইতিমধ্যে বুঝিয়ে এসেছেন ।
বিজেপির সুত্র আরও জানিয়েছেন, অমিত শাহ নরেন্দ্র মোদীর রণকৌশলে গুরুত্ব হারাতে পারেন বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যকারিনি সদস্য মুকুল রায়। সেক্ষেত্রে মুকুল রায়ের থেকে বেশি গুরুত্ব পেতে পারেন, অন্য সংগঠন থেকে বিজেপিতে আসা কোনও নেতা।এমনকি বিজেপির সংগঠনের দ্বায়িত্ব দিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যাদেরকে ভেবেছেন তাদের সম্পর্কে গোয়েন্দা সহ বিভিন্ন সংস্হা মারফত খোঁজ খবরও নিয়েছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি জুলাই মাসেই রদবদল হতে পারে বিজেপির রাজ্য সংগঠনে শীর্ষ পদে।তবে বাংলার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে ক্ষেত্রীয় প্রচারক প্রদীপ যোশীকে। এমনকি রাজ্য সভাপতির চাপ কমাতে আর সংগঠন শক্তিশালি করতে দীলিপ ঘোষকে দেওয়া হচ্ছে সহযোগী।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ সালের আগেই বিধানসভা নির্বাচন করাতে পারেন।যাতে করে বিজেপি ঘর গোছাতে না পারে বিধানসভা নির্বাচনে। বিজেপিও তলে তলে অনেকদূর এগিয়েছে। সুত্রের দাবি, নরেন্দ্র মোদী বাংলায় একাধিক সভা করতে এসে এবং অমিত শাহের নিজস্ব উইং দিয়ে বাংলার রাজ্য থেকে জেলার সব ধরণের নেতাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন । এমনকি নির্বাচনের টাকা নিয়ে জেলার কোন কোন নেতারা নয়ছয় করেছে। শাসক তৃণমূলের সাথে রফা করেছেন সে খবরও অমিত শাহের উইংয়ের কাছে খবর আছে।শুধু অমিত মোদী নন সংঘ পরিবারের অনেকেই তা জানেন। বেশ কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনে কি ভাবে জেলার নেতাদের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছেন তা জানিয়েছেন। অমিত মোদীরা সেই অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছেন বেশ কিছু ক্ষেত্রে।
বিজেপির দিল্লি নেতৃত্ব মনে করছেন, এমন দূর্নীতিতে পটুদের দিয়ে অসম ত্রিপুরার কৌশলে বাংলা জয় সম্ভব নয়। অভিযোগ উঠেছে, বেশ কিছু ক্ষেত্রে তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের থেকে মোটা টাকারও লেনদেন হয়েছে।সুত্রের আরও খবর ,বেশ কিছু জেলা থেকে দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে চিঠি। ওই চিঠিতে প্রমান সহ উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনের সময় সভা সহ প্রচার কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ টাকা ঢুকেছে নেতাদের পকেটে। সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করছেন , বাংলার নেতারা লাগামহীন।এই মানসিকতাকে নিয়ন্ত্রণ না করলে বিকিয়ে যেতে পারে ভোট লড়াইয়ে।পাশাপাশি বাম তৃণমূল থেকে আসা বান নিয়ন্ত্রন না করলে বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছতে পারে। সেক্ষেত্রে সংগঠনে দক্ষ আর নিয়ন্ত্রনে জাদরেল এবং ঐক্য তৈরিতে বলিষ্ট মানসিকতার নেতৃত্ব দরকার বাংলা বিজেপিতে।
লোকসভা ভোট পরবর্তী অধ্যায়ে বাংলা জুড়ে যে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে তাতে বিজেপি সম্পর্কে বামেরা প্রচার করে বিরুপ ধারণা ছড়িয়ে দিতে পারে।তৃণমুলকে হারাতে গিয়ে বাম শক্তির উদয় যাতে না হয় তা বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বাংলার শান্তি নষ্টে বিজেপি যেন ভিলেন না হয় সেই নীতি নেওয়া হবে।পাশাপাশি তৃণমূলের বাঙালি আবেগ জাগাতে হিন্দি বলয় বিরোধী রাজনীতিকে টেক্কা দিতে বাংলা বিজেপিকে বাংলার মতন করে তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
source http://www.breakingbangla.com/2019/07/bjp-leaders-change-update-in-bengal.html
No comments:
Post a Comment