একজন তৃণমূলের জেলা সভাপতি, একজন তৃণমূল বিধায়ক, আর তৃণমূল পরিচালিত জেলাপরিষদের ১৮ সদস্যের মধ্যে ১০জন যোগ দিলেন বিজেপি-তে। উত্তরবঙ্গের তৃণমূলে সোমবার বড়সড় ভাঙন ধরানোর পর একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড তথা বিজেপি নেতা মুকুল রায় হুঙ্কার ছেড়ে ঘোষণা করলেন, “বাংলার রাজনীতিতে ভূমিকম্প হয়ে গেল আজ।এ দিন মুকুলবাবু বলেন, “এটা প্রথম পর্বের এক্সটেনশন চলছে। যখন সাত দফা শেষ হবে, তখন দেখবেন মমতার সরকার পড়ে গিয়েছে।”বিজেপি নেতারা আগেই ঘোষণা করেছিলেন, যে ভাবে সাত দফায় ভোট হয়েছিল, সে ভাবেই সাত দফায় যোগদান পর্ব চলবে। এ দিন ঘাসফুল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সদ্যপ্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র, কালচিনির বিধায়ক উইলসন চম্প্রামারি এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের ১০ জন সদস্য। সেই সঙ্গে বিজেপি নেতারা বলেন আরও চার জেলা পরিষদ সদস্য যোগ দেবেন। কিন্তু তাঁরা আজ আসতে পারেননি। এতদিন গ্রামপঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতির দখল নিলেও এই প্রথম ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের সর্বোচ্চ স্তর জেলা পরিষদে থাবা বসাল গেরুয়া শিবির। মুকুলবাবু বলেন, “জেলা পরিষদ মানে একটা জেলার সরকার। সেটা আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে চলে গেল।” দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট আসন এ বার হারতে হয়েছে তৃণমূলকে। তখন থেকেই শাসক দলের একাংশ বলতে শুরু করেছিলেন, জেলা সভাপতি তলায় তলায় বিজেপি-র সঙ্গে যোগ রেখেই দলের প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছেন। বিপ্লববাবু যে নিজে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তা নিয়ে ভোটের আগেই গুঞ্জন ছিল। ভোট মিটতেই জেলা সভাপতি বদল করে দেন মমতা। বিপ্লবের স্থলাভিষিক্ত হন পরাজিত প্রার্থী তথা নাট্যকর্মী অর্পিতা ঘোষ। ইতিমধ্যেই পাঁচটি পুরসভা দখল করেছে বিজেপি। ভাটপাড়া, হালিশহর, কাঁচড়াপাড়া, দার্জিলিং-এর পর বিজেপি-র দখলে গিয়েছে গারুলিয়া পুরবোর্ডও। পঞ্চায়েতের যোগদান তো লেগেই রয়েছে। এর মধ্যে আবার যোগ হল জেলা পরিষদও, শোনা যাচ্ছে কয়েক দিনের মধ্যে বিজেপি-তে যোগ দিতে পারেন বাঁকুড়া জেলার এক মহিলা বিধায়কও।
Tuesday, June 25, 2019
সাত দফার যোগদান পর্বে তৃণমূল সরকার ফেলবে বিজেপি
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment