পর্ণগ্রাফি দেখলে এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়ে মানুষের মস্তিষ্কে - ব্রেকিং বাংলা

Breaking

Tuesday, March 3, 2020

পর্ণগ্রাফি দেখলে এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়ে মানুষের মস্তিষ্কে



পর্ণগ্রাফি কি ধর্ষক তৈরি করে!
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা,৩মার্চ:-ক্রমাগত পর্ণগ্রাফি দেখলে এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়ে মানুষের মস্তিষ্কে। যখন মানুষ পর্ণগ্রাফি দেখে তখন তার মানসচিত্রে এধরনের অস্বাভাবিক ও নগ্ন কুচিত্র এক তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করে যার ফলে মস্তিষ্কে রাসায়নিক ডোপামিন নি:সৃত হয় বলে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন। এর ফলে মানুষের মস্তিষ্ক অতিরিক্তমাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ফলে সে স্বাভাবিক যৌন জীবনে উত্তেজনা বোধ করে না বা তার কামাবেগ তাৎক্ষনিক বৃদ্ধি পেলে আদতে তা অনুত্তেজিত হয়ে পড়ে। এমনকি এভাবে নিয়মিত পর্ণগ্রাফি দেখতে দেখতে তার মস্তিষ্ক সঙ্কুচিত হয়ে যায় বলে বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন।ইন্টারনেট বা অন্যান্য মাধ্যমে পর্ণগ্রাফি সহজলভ্য হয়ে পড়ায় ১৩ বছরের শিশু থেকে শুরু করে অনেকেই পর্ণগ্রাফি দেখে থাকে। এদের পরীক্ষা করে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী ও গবেষকরা দেখতে পাচ্ছেন প্রতিদিন পর্ণগ্রাফি দেখার পর লাখ লাখ মানুষ এক ধরনের পাপবোধে ভুগতে শুরু করে। পর্ণগ্রাফি নারী ও পুরুষকে যৌন কল্পনায় এক অস্বাভাবিক জগতে নিয়ে যায় যার সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক যৌনতার কোনো মিল নেই। যদিও সাময়িকভাবে পর্ণগ্রাফি মানুষকে উত্তেজিত করে বলে সে মনে করে এতে তার কামশক্তি বৃদ্ধি পায় কিন্তু ধীরে ধীরে সে তা অস্বাভাবিক যৌনতায় আসক্ত হওয়ার ফলে বিষয়টি তার স্বাস্থ্যহানির দিকে নিয়ে যায়। পর্ণগ্রাফি একাধিক সঙ্গী বা সঙ্গীনির সঙ্গে যৌনতায় প্রলুব্ধ করে এবং এতে সামাজিক সম্পর্কে বড় ধরনের অনাস্থা, অবিশ্বাস ও একের পর এক অন্যের প্রতি আসক্ত করে তোলে।
                                       বিজ্ঞানীরা বলছেন, পর্ণগ্রাফি দেখার ফলে এর প্রতিযে আসক্তি প্রবণতা তৈরি হয় তা মনকে বিক্ষিপ্ত করে তোলে। এতে মস্তিষ্কে অশুভ প্রভাব পড়ে। অশ্লীল কামনা বৃদ্ধি পায়। জার্মানির এক দল গবেষক পর্ণগ্রাফি নিয়ে তাদের গবেষণাপত্র প্রকাশ করে বলছেন, পর্ণগ্রাফি যতই দেখতে থপল কোনো মানুষ ততই তার মস্তিষ্কে এধরনের চাহিদা সৃষ্টি হয়, কিন্তু একপর্যায়ে মানুষ যৌনতার এধরনের উৎকট চিত্র দেখতে দেখতে বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে সাড়া দেয়ার শক্তি পর্যন্ত হারিয়ে ফেলে। ফিজিলোজি টুডে জার্নালে প্রকাশিত ওই প্রকাশনায় বিজ্ঞানীরা বলছেন, পর্ণগ্রাফি দেখতে দেখতে মানুষ ক্রমান্বয়ে তীব্র যৌন অনুভূতি ও চরম অভিজ্ঞতা লাভ করে এবং তার মনে আরো এধরনের বিপুল চাহিদা তৈরি হয়। ফলে এধরনের অভ্যস্ত মানুষ তার বেডরুমে যা যৌন কল্পনা করে বাস্তবে ও স্বাভাবিক যৌন জীবনে তার কোনো মিল পায় না এবং সেখানে এক চরম ঘাটতি পূরণে ব্যর্থ হয়ে সে অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে। সে আশাহত থাকে। ধর্ষণ ও মাদকাসক্তের দিকেও সে এগিয়ে যেতে পারে। পর্ণগ্রাফি দেখে দেখে ক্রমাগত তার মস্তিষ্ক যৌনতা সম্পর্কে এমন এক চাহিদা তৈরি করে বাস্তবে তার যোগান দেয়া সম্ভব না হয়ে ওঠায় সে আরো তিরিক্ষি মেজাজের হয়ে ওঠে। একধরনের অপরাধ প্রবণতা তার মধ্যে সৃষ্টি হয়। যা সে সুযোগ পেলেই কারো ওপর অস্বাভাবিক সেই যৌন আচরণ প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়।২০১৩ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক নিয়মিত পর্ণগ্রাফি দেখেন এমন বেশ কয়েকজন ব্যক্তির মস্তিষ্ক স্ক্যান করে দেখতে পান উত্তেজিত সব দৃশ্য দেখতে পেলেই তার মস্তিষ্ক অস্বাভাবিক চঞ্চল বা সক্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু তার যোগান সে যখন পায় না তখন তীব্র হতাশায় মন তার মাদকের দিকে হাত বাড়ায়। মদ থেকে শুরু করে অনেক নেশাদ্রব্য ব্যবহার করে সে মুক্তি খুঁজতে থাকে। এর এক বছর পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক দল গবেষকের গবেষণায় ধরা পড়ে নিয়মিত পর্ণগ্রাফি দেখে থাকেন এমন ব্যক্তিদের সঙ্গী বা সঙ্গীনিরা যদি তা না দেখে থাকেন তখন দুজনের মধ্যে যৌনতা সম্পর্কে চাহিদা থেকে শুরু করে কাম প্রবৃত্তির একটা বিরাট পার্থক্য থাকে যা তাদের সম্পর্কে চিড় ধরাতে বাধ্য করে। কারণ যৌনতা নিয়ে দুজনের চিন্তা ও চেতনা ও আচরণের প্রভেদ থাকে ঢের বেশি।


No comments:

Post a Comment

Post Top Ad