সিগন্যালের সামনে দাঁড়িয়ে গাড়ির হর্ন বাজানোর স্বভাব শহরের প্রায় সব জায়গাতেই চোখে পড়ে। সিগন্যালের কাউন্ট ডাউন ১০,৯,৮,৭… হতেই বেজে ওঠে গাড়ির হর্ন। যেন হর্নের শব্দে তাড়াতাড়ি লাল আলো সবুজ হয়ে উঠবে। মাত্রাতিরিক্ত হর্নের ফলে যে শব্দ দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পায় সেদিকেও খেয়াল নেই কারও। আর এবার এই শব্দ দানবকে রুখতে এক অভিনব পদক্ষেপ নিল মুম্বই পুলিশ। লাল সিগন্যালে দাঁড়িয়ে হর্ন বাজালে ‘শাস্তি’র সম্মুখীন হতে পারেন গাড়ি চালকেরা।
তবে এই শাস্তি কোনও আইনত কোনও পদক্ষেপ নয়। এর জন্য আপনাকে কোনও ফাইন বা জরিমানা করা হবে না। মুম্বই পুলিশের অভিনব বুদ্ধিতে আপনি যদি সিগন্যালে দাঁড়িয়ে তাড়াহুড়ো করে হর্ন বাজান সেক্ষেত্রে আপনাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে আরও বেশিক্ষণ। মুম্বই পুলিশ এমন একটি সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু করেছে, যেখানে বেশি হর্ন বাজালে লাল সিগন্যালের সময় আরও বেড়ে যাবে। আসলে সিগন্যালে একটি বিশেষ যন্ত্র বসানো হয়েছে মুম্বই পুলিশের তরফে। যেখানে ইংরেজীতে ডিসপ্লে বোর্ডে ফুটে উঠছে একটি লেখা ‘বেশি হর্ন দিলে, বেশি অপেক্ষা করতে হবে’। যন্ত্রটির বিশেষত্ব হল হর্নের মাত্রা যদি ৮৫ ডেসিবেলের বেশি হয়, তবে ফের লাল সিগন্যালের কাউন্টডাউন শুরু হবে ৯০ থেকে। এরফলে সচেতন গাড়ি চালকেরা আর সিগন্যালে দাঁড়িয়ে হর্ন বাজাতে চাইছেন না। মুম্বই পুলিশের আশা এরফলে মুক্তি মিলবে সিগন্যালের শব্দদানব থেকে।
নেটিজেনরাও মুম্বই পুলিশের এই পদক্ষেপকে দারুণ ভাবে প্রশংসা করেছে। অনেকেই বলছেন এই ব্যবস্থা যদি দেশের সর্বত্র চালু করা যায়, তবে শব্দ দানবের হাত থেকে কিছুটা মুক্তি মিলতে পারে। উল্লেখ্য প্রথম বিশ্বের বেশ কিছু দেশে হর্ন নিয়ে ট্রাফিক নিয়মে অত্যন্ত কড়াকড়ি রয়েছে। কেউ যদি অপ্রয়োজনে হর্ন বাজান সেক্ষেত্রে তাঁকে ফাইনও করা হয়। ভারতের রাস্তায় এ বিষয়ে কোনও সুস্পষ্ট নিয়মের কড়াকড়ি চোখে পড়ত না। তাই লোকে, হর্ন বাজাতেন মনের আনন্দে, নিজের ইচ্ছায়। কিন্তু এবার থেকে যে সেটা হবে না তেমনই বার্তা দিল মুম্বই পুলিশ।
No comments:
Post a Comment