৪২ বা ৪৬ নয়, ৩৭ - ব্রেকিং বাংলা

Breaking

Saturday, February 15, 2020

৪২ বা ৪৬ নয়, ৩৭

৪২ বা ৪৬ নয়, ৩৭


 কথায় বলে ছেলেদের বেতন এবং মেয়েদের বয়স কখনও জিজ্ঞেস করতে নেই। কিন্তু নায়িকা বলে কথা! রূপালি পর্দার মানুষদের ঘিরে বাড়তি আগ্রহ থাকবেই। জয়া আহসান কি সেই আগ্রহের বলি হলেন?

ঘটনার শুরু কয়েক বছর আগে থেকেই। দুই বাংলায় এই অভিনেত্রীর বিজয় পতাকা যতটা উঁচুতে উড়েছে তত ফিসফাস বেড়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- জয়া আহসানের বয়স কত? কেউ বলছেন ৪২, কেউ ৪৬! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ট্রলও হয়েছে। যাহা বায়ান্ন তাহা তেপ্পান্ন হলেও না হয় কথা ছিল। কিন্তু প্রকৃত বয়সের সঙ্গে এই সংখ্যার যে অনেক ফারাক!

বিষয়টি এতটাই বিরক্তিকর হয়ে উঠেছিল যে, জয়া আহসান এক পর্যায়ে ফেইসবুক পেইজে স্ট্যাটাস দিতে বাধ্য হয়েছেন। গত বছর ১০ জুলাই তিনি তিতিবিরক্ত হয়ে লিখেছেন: ‘ইদানীং ২/১ টি বিষয় আমাকে কিছুটা ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে বেশ কয়েকজন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, উইকিপিডিয়ার তথ্যসূত্র টেনে আমার বয়স নিয়ে বেশ চর্চা করছেন। বলা হচ্ছে, আমার বয়স নাকি ৪৬!’

জয়া আহসান অবশ্য এসব গুজব-গুঞ্জন বরাবর খাবারে লবণের মতো উপভোগ করেছেন। কিন্তু লবণেরও তো একটা মাত্রা আছে। মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি আরো লিখেছেন: “খুব সম্ভবত আমার চুপ থাকাটাকে অনেকে ‘মৌনতা সম্মতির লক্ষণ’ হিসেবে ধরে নিয়েছেন। আমি প্রথম ও শেষবারের মতো সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই- বয়স নয়, একজন শিল্পীর প্রকৃত পরিচয় হওয়া উচিত তার কাজে। ৪৬ কিংবা ৫৬ কিংবা তার চেয়েও বেশি বয়স হলেই অভিনেত্রীরা কাজের অযোগ্য কিংবা তারুণ্যদীপ্ত চরিত্রে অভিনয় করতে পারবেন না- এমন ধারণা বিশ্বের কোনো চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিই পোষণ করে না। তাই ব্যক্তি জয়া আহসানের যে বয়স, তা নিয়ে আমি এতটুকু বিচলিত নই। তবে ভুল তথ্য প্রচার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি।”

এখন প্রশ্ন হলো, এই অভিনেত্রীর প্রকৃত বয়স কত? জয়া নিজেই জানিয়েছেন সেই সংখ্যা। গণমাধ্যমে জয়া বলেছেন, তার বয়স ৩৭ বছরের একদিনও বেশি নয়। উইকিপিডিয়ায় তাকে নিয়ে যেসব তথ্য দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে অনেক তথ্যই ভুল।

এই ভুলের জন্য জয়াকে যদি দায়ী করা হয় তাহলে খুব একটা ভুল হবে না। কারণ এই বয়সেও তিনি যেভাবে ফিটনেস ধরে রেখেছেন তা অনেকের জন্যই ঈর্ষণীয়। শুধু তাই নয়, অভিনয় গুণে তিনি নিজেকেই যেন ছাড়িয়ে যাচ্ছেন! ফলে নবাগতারা হালে হাওয়া পাচ্ছেন না। ৩৭-এ পা দিয়েও জয়া যথেষ্ট আকর্ষণীয়া। সাধারণত নারী তারকাদের উত্থান ঘটে ২০-এর কোঠায়। এরপর তাদের যত বয়স বাড়ে তারা ভাবি অথবা মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। ইন্ডাস্ট্রি এতদিন তাই দেখে এসেছে। কিন্তু জয়া যে সব পাল্টে দিলেন! ফলে শত্রু তো তার বাড়বেই। ছড়াবে গুঞ্জন।

জয়া আহসান সব গুঞ্জনের জবাব দিচ্ছেন কাজ দিয়ে। আর এ কারণেই এই মুহূর্তে দুই বাংলার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মুখ তিনি।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad