দু’বেলা দু’মুঠোর জোগাড় করতে মাঠে, হাবড়ায় দুই শিক্ষিত মেয়ের। যে হাতে পেন এবং কম্পিউটার ধরেন,পেটের টানে জীবন যুদ্ধে সে হাতেই লাঙলের ফাল এবং কাঁস্তে নিয়ে জমি চাষ করছেন গ্রাজুয়েট দুই ছাত্রী।বাবাকে হারিয়েছেন চার বছর আগে তখন থেকেই দুই বোন সমাপ্তি মন্ডল এবং দীপা মন্ডল সংসারের বোঝা তুলে নেন কাঁধে।হাবড়া কুমড়া পঞ্চায়েতের আনখোলা এলাকায় তাদের বাড়ি। পরিবারে ছয় বোন তার ভেতরে চারজনের বিয়ে হয়ে গেছে আগেই। শত অভাবের মধ্যেও একটু শিক্ষিত করবার লক্ষ্যে ছিলেন দারিদ্র বাবা-মা। ছোট মেয়ে সমাপ্তি জখন অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী তখন থেকেই বাবার সাথে বাবার সাথে চাষের কাজ করতেন পাশাপাশি পড়াশোনাও চালাতেন।বাবা ভোলানাথ মন্ডল ২০১৫ সালে মারা যান, কিন্তুু আট বছর প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী অবস্থায় ছিলেন। একদিকে সংসারে অভাব অন্যদিকে পেটের টানে নিজেদের জমির কাজে নেমে পরেন সমাপ্তি। চাষের কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে ২০১৩ সালে এলাকার একটি স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করে এবং ২০১৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে পরবর্তীতে হাবড়া শ্রী চৈতন্য মহাবিদ্যালয় থেকে ভূগোলে অনার্স নিয়ে পাশ করেন ২০১৯ এ।পাশাপাশি দিদি দীপা মন্ডল ২০১৪ সালে ইংরেজি মাধ্যম থেকে গ্রাজুয়েট পাশ করে চাকরি না পেয়ে নিজের জমিতে চাষ বাসের কাজ করছেন দুই বোন আভাবের সংসারে পেট চালাতে।আজকের দিনে যখন মেয়েরা কেউ উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আকাশে উড়ছেন, কেউ আবার অনান্য চাকরিতে মত্ত এবং স্বাস্থ্য সৌন্দর্য নিয়ে ব্যস্ততার মধ্যে থাকেন অনেকেই তখন সমাজের বুকে দাঁড়িয়ে সমাপ্তি এবং দীপার মতো দারিদ্র মেয়েদের ছবিটা পুরোটাই উল্টো। কখনো প্রখর রৌদ্রের তাপে পুড়ে আবার কখনো বৃষ্টির জলে ভিজে,কখনো জমিতে ফসলের উব্বরতা বৃদ্ধির জন্য সাড় ছড়াচ্ছে কখনো আবার জঙ্গল পরিস্কার কিংবা লাঙল চড়াচ্ছেন মাঠে শুধুমাত্র পেটের টানে। কোন রকম নিজেরা লজ্জা না পেয়ে আজকের দিনে তারা ব্যস্ত হচ্ছেন এই কাজে।চাষের কাজের মধ্যে থেকে সময় বেড় করে পড়াশোনা এবং কম্পিউটার শিখতে যাওয়া,ছোট বাচ্চাদের টিউশন পড়িয়ে নিজের পড়াশুনো করে নিজেকে তৈরি করাটাই রোজকার জীবন যুদ্ধের লড়াই সমাপ্তির।দিদি দীপা একাধিক জায়গায় সরকারী চাকরির চেষ্টা করলেও তা আর্থিক অবস্থা খারাপের জন্য বিফলে গেছে বলে জানান আমাদের।আজকের দিনেও এক শিক্ষিত মহিলা পেটের টানে চাষ বাস করছেন তা আমাদের লজ্জা সমাজের লজ্জা।পঞ্চায়েত থেকে কোনদিন কেউ খোঁজ নেননি, শুধুমাত্র কন্যাশ্রী প্রকল্প থেকে ২৫ হাজার টাকা পেয়ে ছিলেন তবে সেটা দিয়ে বাড়ির গ্রিল লাগিয়ে ছিলেন কারন দুই বোন মাকে নিয়ে গ্রামের এক কর্নারে ফাঁকা জায়গায় বাড়ি করে মা আর দুই বোন থাকেন কিছুটা হলেও ভয় তো লাগেই তাই।মা অঞ্জলি মন্ডল ছয় মেয়েকে নিয়ে প্রথমে কিছুটা হলেও চিন্তিত থাকলেও তিনি বর্তমানে খুব খুশি এবং গর্বিত কষ্টের মধ্যেও ছয় মেয়েকে পড়াশোনা শিখিয়ে মানুষ করেছেন।এখন দুই মেয়ে নিজেদের জমিতেই চাষ বাস করে সংসার চালান।পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জদি মেয়েদের পাশে একটু সরকার দাড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে তাদের আরো ভাল হত।তবে সমাপ্তি জানান চাষ করতে তিনি লজ্জা পাননা বরং খুবই আনন্দিত তিনি।বাবার স্মৃতি ধরে রেখেই কাজ করছেন।সরকারী ভাবে একটু সাহায্য পেলে আরো ভালো হত চাষের কাজ।আর একটা সরকারি চাকরি পেলে সংসারটা একটু বাঁচতে পারবেন।এখন দেখার রাজ্যের মাননীয়া এক জন মহিলা হয়ে একজন স্নাতক মহিলা কৃষকের পাশে দাড়ায় কি না!নাকি সমাপ্তিদের মতো গরীব দরিদ্র চাষী মেয়েদের জীবন এখানেই সমাপ্ত হয়ে যায়।
Sunday, July 28, 2019
চাকরী নেই মাঠে চাষ করছেন অনার্স পাশ পড়ুয়া
দু’বেলা দু’মুঠোর জোগাড় করতে মাঠে, হাবড়ায় দুই শিক্ষিত মেয়ের। যে হাতে পেন এবং কম্পিউটার ধরেন,পেটের টানে জীবন যুদ্ধে সে হাতেই লাঙলের ফাল এবং কাঁস্তে নিয়ে জমি চাষ করছেন গ্রাজুয়েট দুই ছাত্রী।বাবাকে হারিয়েছেন চার বছর আগে তখন থেকেই দুই বোন সমাপ্তি মন্ডল এবং দীপা মন্ডল সংসারের বোঝা তুলে নেন কাঁধে।হাবড়া কুমড়া পঞ্চায়েতের আনখোলা এলাকায় তাদের বাড়ি। পরিবারে ছয় বোন তার ভেতরে চারজনের বিয়ে হয়ে গেছে আগেই। শত অভাবের মধ্যেও একটু শিক্ষিত করবার লক্ষ্যে ছিলেন দারিদ্র বাবা-মা। ছোট মেয়ে সমাপ্তি জখন অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী তখন থেকেই বাবার সাথে বাবার সাথে চাষের কাজ করতেন পাশাপাশি পড়াশোনাও চালাতেন।বাবা ভোলানাথ মন্ডল ২০১৫ সালে মারা যান, কিন্তুু আট বছর প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী অবস্থায় ছিলেন। একদিকে সংসারে অভাব অন্যদিকে পেটের টানে নিজেদের জমির কাজে নেমে পরেন সমাপ্তি। চাষের কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে ২০১৩ সালে এলাকার একটি স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করে এবং ২০১৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে পরবর্তীতে হাবড়া শ্রী চৈতন্য মহাবিদ্যালয় থেকে ভূগোলে অনার্স নিয়ে পাশ করেন ২০১৯ এ।পাশাপাশি দিদি দীপা মন্ডল ২০১৪ সালে ইংরেজি মাধ্যম থেকে গ্রাজুয়েট পাশ করে চাকরি না পেয়ে নিজের জমিতে চাষ বাসের কাজ করছেন দুই বোন আভাবের সংসারে পেট চালাতে।আজকের দিনে যখন মেয়েরা কেউ উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আকাশে উড়ছেন, কেউ আবার অনান্য চাকরিতে মত্ত এবং স্বাস্থ্য সৌন্দর্য নিয়ে ব্যস্ততার মধ্যে থাকেন অনেকেই তখন সমাজের বুকে দাঁড়িয়ে সমাপ্তি এবং দীপার মতো দারিদ্র মেয়েদের ছবিটা পুরোটাই উল্টো। কখনো প্রখর রৌদ্রের তাপে পুড়ে আবার কখনো বৃষ্টির জলে ভিজে,কখনো জমিতে ফসলের উব্বরতা বৃদ্ধির জন্য সাড় ছড়াচ্ছে কখনো আবার জঙ্গল পরিস্কার কিংবা লাঙল চড়াচ্ছেন মাঠে শুধুমাত্র পেটের টানে। কোন রকম নিজেরা লজ্জা না পেয়ে আজকের দিনে তারা ব্যস্ত হচ্ছেন এই কাজে।চাষের কাজের মধ্যে থেকে সময় বেড় করে পড়াশোনা এবং কম্পিউটার শিখতে যাওয়া,ছোট বাচ্চাদের টিউশন পড়িয়ে নিজের পড়াশুনো করে নিজেকে তৈরি করাটাই রোজকার জীবন যুদ্ধের লড়াই সমাপ্তির।দিদি দীপা একাধিক জায়গায় সরকারী চাকরির চেষ্টা করলেও তা আর্থিক অবস্থা খারাপের জন্য বিফলে গেছে বলে জানান আমাদের।আজকের দিনেও এক শিক্ষিত মহিলা পেটের টানে চাষ বাস করছেন তা আমাদের লজ্জা সমাজের লজ্জা।পঞ্চায়েত থেকে কোনদিন কেউ খোঁজ নেননি, শুধুমাত্র কন্যাশ্রী প্রকল্প থেকে ২৫ হাজার টাকা পেয়ে ছিলেন তবে সেটা দিয়ে বাড়ির গ্রিল লাগিয়ে ছিলেন কারন দুই বোন মাকে নিয়ে গ্রামের এক কর্নারে ফাঁকা জায়গায় বাড়ি করে মা আর দুই বোন থাকেন কিছুটা হলেও ভয় তো লাগেই তাই।মা অঞ্জলি মন্ডল ছয় মেয়েকে নিয়ে প্রথমে কিছুটা হলেও চিন্তিত থাকলেও তিনি বর্তমানে খুব খুশি এবং গর্বিত কষ্টের মধ্যেও ছয় মেয়েকে পড়াশোনা শিখিয়ে মানুষ করেছেন।এখন দুই মেয়ে নিজেদের জমিতেই চাষ বাস করে সংসার চালান।পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জদি মেয়েদের পাশে একটু সরকার দাড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে তাদের আরো ভাল হত।তবে সমাপ্তি জানান চাষ করতে তিনি লজ্জা পাননা বরং খুবই আনন্দিত তিনি।বাবার স্মৃতি ধরে রেখেই কাজ করছেন।সরকারী ভাবে একটু সাহায্য পেলে আরো ভালো হত চাষের কাজ।আর একটা সরকারি চাকরি পেলে সংসারটা একটু বাঁচতে পারবেন।এখন দেখার রাজ্যের মাননীয়া এক জন মহিলা হয়ে একজন স্নাতক মহিলা কৃষকের পাশে দাড়ায় কি না!নাকি সমাপ্তিদের মতো গরীব দরিদ্র চাষী মেয়েদের জীবন এখানেই সমাপ্ত হয়ে যায়।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment